বুধবার ৪ঠা মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৯শে ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ইউএসএ থেকে প্রকাশিত অনলাইন নিউজ পোর্টাল
সংবাদ এবং তথ্যে আপনার প্রয়োজন মেটাতে

‘ওরা শুধু হত্যা করেছে’, প্রত্যক্ষদর্শীদের মুখে ইরানে দমনপীড়নের বর্ণনা

বিশ্ব ডেস্ক   |   বুধবার, ১৪ জানুয়ারি ২০২৬   |   প্রিন্ট   |   37 বার পঠিত

‘ওরা শুধু হত্যা করেছে’, প্রত্যক্ষদর্শীদের মুখে ইরানে দমনপীড়নের বর্ণনা

‘আমি নিজের চোখে দেখেছি। তারা সরাসরি বিক্ষোভকারীদের দিকে গুলি চালিয়েছে। মানুষ যেখানে দাঁড়িয়ে ছিল, সেখানেই লুটিয়ে পড়েছে।’

কথাগুলো বলার সময় ওমিদের (ছদ্মনাম) কণ্ঠ কাঁপছিল। ৪০ বছর বয়সী এই ব্যক্তি গত কয়েকদিন ধরে দক্ষিণ ইরানের একটি ছোট শহরের বিক্ষোভে অংশ নিচ্ছেন। কারণ হিসেবে তিনি অর্থনৈতিক সংকটের প্রতিবাদ জানানোর কথা উল্লেখ করেছেন। ওমিদের ভাষ্য, তাঁর শহরে নিরাপত্তা বাহিনী নিরস্ত্র বিক্ষোভকারীদের ওপর কালাশনিকভ (একে) ধরনের রাইফেল থেকে গুলি চালিয়েছে। আর তারা (বিক্ষোভকারী) খালি হাতে একটি নিষ্ঠুর শাসনের বিরুদ্ধে লড়াই করছেন।

সরকারের বিরুদ্ধে দেশটিতে বড় আকারে বিক্ষোভ হয় গত বৃহস্পতিবার। ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবে ক্ষমতাচ্যুত শাহ রাজবংশের নির্বাসিত রাজপুত্র রেজা পাহলভির আহ্বানের পর সেদিন ও পরে শুক্রবার বহু মানুষ বিক্ষোভে যোগ দেন। শুক্রবার সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি পিছু না হটার কথা বলেন। তাঁর ওই ভাষণের পরই সবচেয়ে ভয়াবহ রক্তপাত ঘটে বলে ধারণা করা হচ্ছে। কারণ, নিরাপত্তা বাহিনী ও ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী তাঁর নির্দেশেই কাজ করে।

তেহরানের এক তরুণী বলেন, গত বৃহস্পতিবার তাঁর কাছে ‘কেয়ামতের দিনের’ মতো মনে হয়েছিল। তেহরানের আশপাশের এলাকাগুলোতেও বিক্ষোভকারীদের ভিড় ছিল। এরপর শুক্রবার নিরাপত্তা বাহিনী শুধু হত্যা করে গেছে। ওই তরুণী বলেন, ‘নিজের চোখে এসব দেখে আমি মনোবল পুরোপুরি হারিয়ে ফেলি। শুক্রবার ছিল রক্তাক্ত এক দিন।’

ওই তরুণী বলেন, শুক্রবারের হত্যাকাণ্ডের পর মানুষ রাস্তায় নামতে ভয় পাচ্ছে। অনেকেই গলি থেকে বা ঘরের ভেতর থেকেই স্লোগান দিচ্ছে। যুদ্ধে দুই পক্ষেরই অস্ত্র থাকে। এখানে মানুষ শুধু স্লোগান দিচ্ছে আর মারা যাচ্ছে। এটি একপক্ষীয় যুদ্ধ।

তেহরানের পশ্চিমের শহর ফারদিসের আরেক প্রত্যক্ষদর্শীর বর্ণনা পেয়েছে বিবিসি। তিনি জানান, শুক্রবার রাস্তায় অনেকক্ষণ ধরে পুলিশ ছিল না। কিন্তু হঠাৎ বাসিজের সদস্যরা (ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর অধীনে আধাসামরিক বাহিনী) বিক্ষোভকারীদের ওপর হামলা করে। ইউনিফর্ম পরা ও মোটরসাইকেলে থাকা এসব সদস্য বিক্ষোভকারীদের লক্ষ্য করে সরাসরি গুলি ছোড়ে। বিক্ষোভের সঙ্গে জড়িত না এমন লোকদের লক্ষ্য করেও তারা গুলি চালায়।

বিবিসি লিখেছে, আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো ইরানের ভেতরে স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারে না। ফলে তারা দেশের বাইরে সক্রিয় ইরানি মানবাধিকার সংগঠনগুলোর তথ্যের ওপর নির্ভর করছে। সোমবার নরওয়েভিত্তিক ‘ইরান হিউম্যান রাইটস’ সংস্থা জানায়, দেশটিতে অন্তত ৬৪৮ জন বিক্ষোভকারী নিহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে ১৮ বছরের কম বয়সী অন্তত ৯ জন। বিবিসি এখনো এসব সংখ্যা স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি। ইরানি কর্তৃপক্ষও বিক্ষোভকারীদের মৃত্যুর বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক পরিসংখ্যান প্রকাশ করেনি। ইরানি গণমাধ্যম জানিয়েছে, বিক্ষোভ চলাকালে নিরাপত্তা বাহিনীর ১০০ জন সদস্য নিহত হয়েছেন।

Facebook Comments Box

Posted ৩:৪৬ পিএম | বুধবার, ১৪ জানুয়ারি ২০২৬

|

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

এ বিভাগের আরও খবর

ইউএসএ থেকে প্রকাশিত অনলাইন নিউজ পোর্টাল সংবাদ এবং তথ্যে আপনার প্রয়োজন মেটাতে

NSM Moyeenul Hasan Sajal

Editor & Publisher
Phone: +1(347)6598410
Email: protidinkar@gmail.com, editor@protidinkar.com

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।